Thursday, March 26, 2015
জীবন যেভাবে বদলে যায় by হুমায়ুন সাদেক চৌধুরী
জীবন যেভাবে বদলে যায় by হুমায়ুন সাদেক চৌধুরী
Thursday, March 26, 2015
Anonymous
অন্য দিগন্ত,
আন্তর্জাতিক,
আলোচনা,
মতামত,
মিডিয়া,
স্পেশাল প্রতিবেদন
[নিজের
ও পরিজনের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা অপরাধীদের ধরতে সাহায্য করলেন, আইনের
চোখে তারাই হয়ে গেলেন আসামি! তবে আইন চোখ বন্ধ করে রাখলেও মিডিয়া রাখেনি।
তিন সাংবাদিকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো সত্য। মুক্তি পেলেন তিন বিমানকর্মী।
কিন্তু তত দিনে যা ঘটে গেছে, তা রূপকথাকেও হার মানায়। তাদের জীবনটাই তখন
বদলে গেছে। বিদেশী সাময়িকী অবলম্বনে লিখেছেন হুমায়ুন সাদেক চৌধুরী]
অপরাধ দমনের জন্য একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যত ব্যবস্থা থাকে, তেমনটি আর কোথাও খুব বেশি দেখা যায় না। এখানে থাকে অনেক ভিডিও ক্যামেরা, নিরাপত্তাকর্মী এবং স্ক্যানার। এ ছাড়া প্রত্যেক যাত্রীর নাম তালিকাভুক্ত থাকে। প্রত্যেক পাইলটকে স্ক্যান করে তবেই বিমানবন্দরে ঢুকতে দেয়া হয়। এমনকি নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদেরও নিরাপত্তা তল্লাশির পরই ঢুকতে দেয়া হয়। সব মিলিয়ে এমন কড়াকড়ি, কেউ যে ট্যাঁ ফো করবে, তার উপায় নেই।
এরকম অবস্থা সারা বিশ্বের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেরই। ভেনিজুয়েলার তৃতীয় বৃহত্তম শহর ভ্যালেনসিয়ার আর্তুরো সিচেলেনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটিও তার ব্যতিক্রম নয়। এখানেও বলিভারিয়ান ন্যাশনাল গার্ডের কম্যান্ডো-২৪ এর প্রহরীরা সর্বক্ষণ টহল দিয়ে চলেছে। যখন যাকে খুশি থামাচ্ছে, তল্লাশি করছে, তল্লাশির নামে বেফজুল হয়রানিও করছে। এ নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগের অন্ত নেই।
নিরাপত্তার নামে এসব কড়াকড়ি-বাড়াবাড়ি নিয়ে যার যত অভিযোগই থাকুক, একে তাচ্ছিল্য করতে পারেন একজনই; তিনি কার্ল লুকার্ট। কারণ সব কড়াকড়ির মধ্যেও এমন ঘটনা ঘটেছিল, যা তার জীবনকে আমূল পাল্টে দিয়েছে। কিভাবে? জানতে হলে আসুন একটু পেছনে ফিরে যাই।
২০১২ সালের আগস্ট মাসের কোনো এক দিনে একটি প্রাইভেট জেট বিমান চালিয়ে আর্তুরো মিচেলেনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসেছিলেন লুকার্ট। এ ধরনের বিমান ভাড়া করেন সাধারণত কোনো কোম্পানির সিইও, তারকা কিংবা ধনপতিরা। পাইলট লুকার্ট ভেবেছিলেন, আর্তুরো বিমানবন্দরে তার যাত্রাবিরতিটা হবে সংক্ষিপ্ত। কিন্তু মানুষ যা ভাবে, তা কি আর হয়? ‘স্বাভাবিকভাবে’ এ ক্ষেত্রেও হলো একেবারে বিপরীত। এবং বৈপরীত্যটা এমন যে, লুকার্টের সামনে তখন দু’টি বিকল্প রইল এক. মৃত্যু, দুই. মাদক বহনকারী হওয়া।
এটা ঘটল এভাবে আগস্টের সেই রাতে পাইলট লুকার্ট হঠাৎ দেখলেন তার বিমানের দিকে মেশিনগানের ব্যারেল তাক করে এগিয়ে আসছে ন্যাশনাল গার্ডের একদল সৈন্য। তিনি চেঁচিয়ে জানালেন, ‘নো! নো ব্যাগেজ!’ কিন্তু কে শোনে কার কথা! লুকার্ট দেখলেন, ওরা একে একে ৪৭টি প্লাস্টিক ব্যাগ তার জেট বিমানে ঠেসে দিলো। এসব ব্যাগভর্তি মাদক।
সুন্দরী ও গোপন কথা
কার্ল লুকার্ট যে বাণিজ্যিক বিমানটি চালান, তুষারধবল সেই বিমানটি ১৯ জন আরোহী বহন করতে পারে, আর কোথাও না থেমে একনাগাড়ে উড়তে পারে সাত হাজার মাইল। পাইলট লুকার্ট মজা করে বলেন, ‘আরে আমি তো ট্যাক্সিক্যাব চালাই। ট্যাক্সিক্যাব রাস্তায় চলে, আর আমারটা আকাশেএই যা তফাৎ।’
কথাটা পুরোপুরি অসত্য যে, তাও নয়। আগেই বলেছি, সিইও, তারকা বা ধনাঢ্য মানুষেরাই নিজেদের প্রয়োজনে এ ধরনের বিমান ভাড়া করেন। সেদিনও একটি চার্টার কোম্পানির কাছ থেকে বিমানটি ভাড়া নিয়েছিল বৈরুতের প্রিন্সেস অ্যাভিয়েশন। কথা ছিল মরক্কো থেকে ছেড়ে বিমানটি ত্রিনিদাদ-টোব্যাগো হয়ে ভেনেজুয়েলা যাবে। সেখানে যাত্রাবিরতি শেষে আফ্রিকার বেনিনে।
সেদিন বিমানটিতে যাত্রী ছিলেন একজন রাইমা তাউক। ৩৭ বছর বয়সী এই নারী খুবই আকর্ষণীয়া, খোলামেলা, বন্ধুভাবাপন্ন ও চমৎকার পোশাক পরিহিতা। বিমানে ওঠার আগে পাইলট লুকার্টের সাথে তার নিয়মমাফিক কিছু কথাবার্তা হয়। লুকার্ট জানলেন, মহিলা একজন ফ্যাশন ডিজাইনার। এ কাজে অনেক পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। বৈরুত, দুবাই ও সিডনিতে তার অফিস আছে।
বিমানে উঠেও পাইলটের সাথে অনেক কথা বললেন রাইমা। বৈরুতের জীবন, ভেনেজুয়েলায় তার বন্ধুর অপেক্ষা ইত্যাদি। বিমানের তরুণ স্টুয়ার্ডসদেরও অনেক সময় দিলেন তিনি।
নিরাপদ অবতরণ
প্রথম গোলটি বাধল বিমানটি টোবাগোর একটি দ্বীপে ল্যান্ড করার পর। রাইমা চান তিনি ওই রাতটা হিলটন হোটেলে কাটাবেন। কিন্তু হিলটন হোটেল তো পাশের ত্রিনিদাদে। ত্রিনিদাদ ও টোব্যাগোর মাঝখানে যে সাগরের বিপুল জলরাশি! বিষয়টা জানা ছিল না রাইমার। তা ছাড়া ওই দেশে ঢোকার এন্ট্রি ভিসাও ছিল না তার। কিন্তু এসব তো আইনের অসুবিধা, পকেটে মালকড়ি থাকলে দুনিয়ার সব অসুবিধারই ‘সুবিধা’ হয়ে যেতে সময় লাগে না। কাজে কাজেই পাইলট লুকার্ট কোরাল রিফ হোটেলে রাইমার থাকার ব্যবস্থা করে ফেললেন। হোটেল থেকে রোলস রয়েস গাড়ি এসে তাকে নিয়ে গেল।
পরদিন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটের সময় ভেনিজুয়েলার উদ্দেশে উড়াল দিলো লুকার্টের বিমান। ওখান থেকে ৯০ মিনিট লাগবে ভেনিজুয়েলা যেতে। বিমান চলাকালে ককপিটে এলেন রাইমা। স্যাটেলাইট ফোনে কার সাথে যেন কথা বললেন। তবে কী বললেন কিছুই বুঝলেন না পাইলট। কারণ কথা হলো আরবিতে। তবে রাইমাকে বেশ খুশি খুশি মনে হলো।
ভেনিজুয়েলা এসে বিমান নিরাপদে অবতরণ করল। রাইমা নেমে হোটেলের উদ্দেশে চলে গেলেন। জ্বালানি তেল ভরতে হবে বলে বিমানে রয়ে গেলেন লুকার্ট। বিমানে তেল ভরা হচ্ছে, এ সময় তিনি অবাক হয়ে দেখলেন, ইউনিফর্ম পরা বেশ কিছু লোক বিমানটি ঘিরে রেখেছে। তেল ভরা শেষ হলে বিমানটিকে ওই রাতের জন্য পার্কিং স্পটে নিয়ে গেলেন লুকার্ট। সেখানকার কর্মীরা তাকে বললেন বিমানটিকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে রাখতে। লুকার্ট অবাক, ব্যাপারটা কী! এরকম অনুরোধ তো করার কথা নয় (অনেক পরে অবশ্য তিনি এর কারণ ধরতে সমর্থ হন। এর অর্থ হলো, বিমানের কার্গো দরজাটিকে বিমানবন্দরের বাতি ও নজরদারি ক্যামেরার আওতার বাইরে নিয়ে যাওয়া)!
এর একটু পরই বিমানবন্দরের এক কর্মী এসে লুকার্টের হাতে একটি মোবাইল ফোন ধরিয়ে দিলো। ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে এলো ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে একজনের গলা, যার সারমর্ম হলো, বিমানের দরজা খোলা রেখে লুকার্ট ও তার কর্মীদের ওই রাতে এক হোটেলে চলে যেতে হবে। হোটেলে পৌঁছে দেয়ার জন্য গাড়ি বাইরে অপেক্ষা করছে।
লুকার্ট রাজি হন না। এটা কি সম্ভব? তা ছাড়া বিমানের ক্রুরাও হোটেলে যেতে নারাজ। কেননা বিমান ছাড়ার শিডিউল খুব ভোরে। হোটেলে গেলে সেখান থেকে আসতেই সময় পেরিয়ে যাবে। বিমানে থাকলে সেই সময়টা তো ঘুমানো যাবে। তার চেয়েও বড় কথা, বিমানে তালা না লাগিয়ে রেখে যাওয়া সিকিউরিটি প্রটোকলের লঙ্ঘন। এমন বেআইনি কাজ লুকার্ট করতেই পারেন না। টেলিফোনকারীকে এসব যুক্তি দেখিয়ে লাইন কেটে দেয়ার একটু পর এলো রাইমার ফোন। তারও একই কথা, ‘রাতটা হোটেলে কাটাও। ভালো হবে।’ মহাবিরক্ত হলেন লুকার্ট।
‘আমরা একেবারে অসহায়’
এরপর সবাই বিছানায় চলে গেলেন, কিন্তু নানা চিন্তা ও দুশ্চিন্তায় ঘুম আর আসে না। এলেও একটু পর ভেঙে যায়। রাত ২টার দিকে দরজায় ঠক ঠক শব্দ শোনা গেল; বেশ ক’বার। উঁকি দিতেই দেখা গেল মোবাইল ফোন হাতে দাঁড়িয়ে এক লোক। কাকে যেন বলছে, ‘সব কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি বিমানে তুলতে হবে।’
লুকার্ট কিছু বুঝে ওঠার আগেই সিনেমার দৃশ্যের মতো ঘটনাগুলো ঘটে যেতে লাগল। ঘোর কালো রঙের দুটো গাড়ি চলে এলো। সেখান থেকে নেমে একদল অস্ত্রধারী খুলে ফেলল বিমানের কার্গো দরজা। ‘এসব কী হচ্ছে, বন্ধ করো এসব!’ চেঁচালেন লুকার্ট। জবাবে তার দিকে উদ্যত হলো অস্ত্র। এরপর প্লাস্টিকের সাদা প্যাকেটে ভরে যেতে লাগল বিমান। প্রত্যেক প্যাকেটের গায়ে লেখা ‘রেড ক্রস’। সাদা প্যাকেটগুলো দেখে লুকার্টের মনে হলো যেন ‘তুষারধস হয়েছে। কিন্তু আমরা ছিলাম একেবারেই অসহায়’।
পুরো ‘কাজ’টি সারতে লাগল ২০ মিনিটের মতো। মোট ৪৭টি প্যাকেট উঠল বিমানে। কার্গো বে, যাত্রীদের আসন এবং মাঝখানের চলার পথ সবখানেই ছড়িয়ে আছে এসব প্যাকেট। পুরো সময়টায় সাত-আটজন অস্ত্রধারী দাঁড়িয়েছিল বিমানের সামনে। চোখের সামনে এসব দেখতে দেখতে লুকার্ট ও তার সহকর্মীরা বুঝে গেলেন, তাদের ডাকে কেউ আসবে না। পুরো বিমানবন্দরই এতে জড়িত। আর পুলিশকে খবর দেয়ারও উপায় ছিল না।
‘কাজ’ সেরে অন্ধকারের প্রাণীরা ফের অন্ধকারে মিলিয়ে গেল। লুকার্ট ফোন করলেন সুইজারল্যান্ডে; বিমানটি চার্টার করেছে যে কোম্পানি তার সিইও এরিক ওয়েইজকফকে। সব জানিয়ে তাকে বললেন, ‘আমাদের আসলে কিছুই করার ছিল না।’ লুকার্ট যখন কথা বলছিলেন, তখন দরজায় আবার টোকা। লুকার্ট তার কো-পাইলটকে পাঠালেন কী ব্যাপার দেখতে। কো-পাইলট ফিরে এলে দেখা গেল, আতঙ্কে তার মুখ রক্তশূন্য। তিনি জানালেন ‘লোকটি বলে গেছে, আমরা যদি এখনই বিমানটি ওড়াই, তাহলে আমাদের ওরা খুন করবে।’ রিয়ার উইন্ডো দিয়ে লুকার্ট দেখলেন, হাল্কা মেশিনগান নিয়ে বিমানের পাখার নিচে দাঁড়িয়ে আছে অস্ত্রধারীরা।
লুকার্ট ভাবতে বসলেন কী করা যায়। এই বিমানবন্দরটি রাতে বন্ধ থাকে। মধ্যরাতের পর থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত এখানে কোনো বিমান ওঠানামা করে না। লুকার্ট চেষ্টা করলেন টাওয়ারের সাথে যোগাযোগ করতে। কিন্তু কেউ ফোন ধরে না। লুকার্ট এবার ভাবলেন, এত বস্তা যে ভরা হয়েছে, বিমান কি এর ভার বইতে পারবে? তিনি ছোট একটা পরীক্ষা করলেন। দেখা গেল, ঠিক আছে। ওরা ঠিকই জানে, এই বিমান কতটা ভার বহনে সক্ষম।
শত্রু যখন অন্দরে
পরদিন সকালে বিমানটি আকাশে ডানা মেলল। মিনিট দশেক উড়তে-না-উড়তেই স্যাট-ফোনে কল এলো। এক ব্যক্তি ইংরেজিতে বলল, ‘যেখানে যেতে বলা হয়েছে বিমান যেন ঠিক ঠিক সেখানে যায়। তাহলেই তোমরা জীবন নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে। কথাটা মনে থাকে যেন।’ দেখা গেল, ওরা শুধু পাইলট ও ক্রুদের স্যাট ফোন নাম্বার জানে তা নয়, তাদের দেশ কোনটি, তাদের ঠিকানা এবং আরো অনেক কিছু জানে।
এ দিকে সুইজারল্যান্ডে বিমানটির চার্টার কোম্পানির সদর দফতরে ততক্ষণে তুলকালাম শুরু হয়ে গেছে। নানা মুনি নানা মত দিচ্ছে। এর কারণও অবশ্য আছে। ২০০৪ সালে কারাকাসে এয়ার লুক্সরের একটি ফ্লাইট থেকে বিপুল মাদক উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় বিমানটি বাজেয়াপ্ত করা হয়, পাইলট ও কো-পাইলট দু’জনকেই দীর্ঘ কারাবাস করতে হয়। ঘটনাটি মনে করে আঁৎকে ওঠেন কোম্পানির সিইও এরিক। বিমানটি বাজেয়াপ্ত হলে কী হবে, ওটি তো তার কোম্পানির নয়, এক জার্মান ব্যবসায়ীর।
তবে বিমানের পাইলট লুকার্টের প্রতি কোম্পানির ‘৯৯ ভাগ’ আস্থা রয়েছে। বাকি এক ভাগ হলো সন্দেহ যে, আসলেই তো লুকার্ট এই অপকর্মে জড়িত থাকতেও পারে!
শনিবার পেরিয়ে রোববার এলো। কিন্তু এরিক এমন কাউকে পেলেন না যে, এই বিপদে তাকে একটুখানি সাহায্য করতে পারে। গুগল ঘেঁটে তিনি এবার ইন্টারপোলের নাম্বার জোগাড় করলেন। কথাও হলো এক অফিসারের সাথে। মাদক পাচারের তথ্য জানানোর জন্য অফিসার তাকে ধন্যবাদও দিলেন। ব্যস, ওই পর্যন্তই। তারপর তার আর কোনো খোঁজ নেই।
অন্য দিকে লুকার্টের বিমানের স্যাট-ফোনটি ক্রমাগত বেজেই চলেছে। ধরতেই এক ব্যক্তি জানতে চাইল, বিমানটি এখন ঠিক কোথায় আছে। প্রশ্ন শুনে ক্রুরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। তাদের ধারণা ছিল, গ্রাউন্ড থেকেই বুঝি তাদের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। সর্বশেষ ফোনকলে নিশ্চিত হওয়া গেল, তা নয়।
তবে ক্রুরা তখনো নিশ্চিত ছিল না, আসলে প্লাস্টিকের ভেতরে কী রয়েছে। তারা খুলে দেখতেও ভয় পাচ্ছিল, যদি ওতে বোমা থাকে! আর যদি বিস্ফোরক থাকে এবং জিপিএস ট্র্যাকারের সাহায্যে ওরা দেখতে পায় যে, আমরা ওদের দেখানো পথে চলছি না, তাহলে বিমানটি যদি উড়িয়ে দেয়!
এর মধ্যে লুকার্টের ফোনে রাইমার কল এলো। সে খুব দুঃখ প্রকাশ করল। বারবার ‘সরি!’ বলে জানাল যে, যেভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, কাজ কিন্তু সেভাবে এগোচ্ছে না। এ দিকে লুকার্ট তো রেগে আগুন। সে ফোনে যা-তা বলল রাইমাকে। বলল, তুমি আমাদের সবাইকে মারতে বসেছ। রাইমা সব শুনেও শান্ত গলায় বলল, তোমাদের যেভাবে বলা হয়েছে, তা-ই করো। বেনিন যাও। সেখানে আমি তোমাদের জন্য জ্বালানির ব্যবস্থা করব। মাল খালাস করেই তোমরা নিরাপদে ইউরোপের দিকে চলে যেতে পারবে।
ওরা রাইমার সব কথা শুনল, তবে এক বর্ণও বিশ্বাস করল না। বরং লুকার্ট ও তার কো-পাইলট ঠিক করল, বিমানটিকে তারা কিছুতেই আফ্রিকা (বেনিন) নিয়ে যাবে না। তবে হ্যাঁ, তার আগে নিজ নিজ পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। দু’জনই পরিবারে ফোন করে নিরাপদ কোনো জায়গায় সরে যেতে বলল।
বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট
এ দিকে চার্টার কোম্পানির সুইজারল্যান্ড সদর দফতরে ফোন এলো ইন্টারপোলের। তাদের তদন্তকারীরা ভেনিজুয়েলায় খোঁজ নিয়ে জেনেছে যে, একটি বিমান চুরি হয়েছে। ইন্টারপোল আরো বলল, বিমানটি বেনিনে ল্যান্ড করলে অসুবিধা হবে। বিমান বা ক্রু কাউকেই ওই দেশের বাইরে আনা সম্ভব হবে না। তবে ক্রুদের পরিবারের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ পাঠাল ইন্টারপোল।
কোম্পানির সদর দফতরে তখন আরো কাজ চলছে। বিশেষজ্ঞরা বসে গেছেন হিসাব কষতে যে, ট্যাঙ্কে যে পরিমাণ তেল আছে তা দিয়ে কদ্দুর যাওয়া যাবে। ইউরোপের সব গন্তব্যের মধ্যে নিকটতম হচ্ছে গ্র্যান ক্যানারিয়া দ্বীপ। সেখানে বিমানটিকে অবতরণ করানোর বিষয়ে ইন্টারপোলও একমত হলো। বলল, ক্রুদের নিরাপত্তায় সব রকম ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ দিকে বিমানের ট্রান্সমিটিং লোকেশান ইনফরমেশন বন্ধ করে দিলেন লুকার্ট। এর ফলে বিমানটি তখন কার্যত অদৃশ্য হয়ে গেল। অর্থাৎ ভূপৃষ্ঠে বসে কোনোভাবেই জানা সম্ভব হবে না যে, বিমানটি কোথায়। এরপর পাইলট বিমানটি নিয়ে গেলেন ৪৬ হাজার ফুট উঁচুতে (সাধারণত, যাত্রীবাহী জেট বিমানগুলোই এরকম উচ্চতায় চলাচল করে)। এ অবস্থায় মাদক ব্যবসায়ীরা যখন ফোন করে বিমানের অবস্থান জানতে চাইল, বিমান থেকে জানানো হলো যে, বিমান আফ্রিকার দিকে এগিয়ে চলছে।
এবার ফোনে বলা হলো বারকিনা ফাসো যেতে। আফ্রিকার এই দেশটির বেশ কয়েকটা বিমানবন্দরের নাম বলে জানানো হলো যে, এর যেকোনো একটিতে লুকার্ট যেন তার বিমানটি নামান। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যেসব বিমানবন্দরের নাম বলা হয়েছে, তার বেশির ভাগের মালিকই সেনাবাহিনী। কিন্তু লুকার্টের গ্লোবাল এক্সপ্রেস বিমানটি তো সবখানে নামতে পারে না। এর পাখার দৈর্ঘ্য ৩০ মিটার এবং এটি নিরাপদ অবতরণের জন্য আট শ’ মিটার দীর্ঘ রানওয়ে লাগবে। আর রানওয়ের ভার বহন ক্ষমতা হতে হবে ৪৫ টন।
এ অবস্থায় লুকার্ট আবার তার বস এরিককে ফোন করলেন। বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে কথা বললেন তারা। যেমন, মাদকের প্যাকেটগুলো আটলান্টিকে ফেলে দিলে কেমন হয়? লুকার্ট বললেন,্ এ কাজটি করতে গেলে বিমানটিকে সাগরের যথাসম্ভব কাছাকাছি নামিয়ে ওড়াতে হবে। এতে জ্বালানি খরচ হবে বেশি। তাহলে গ্র্যান ক্যানারিয়া পৌঁছার মতো জ্বালানির ঘাটতি পড়ে যাবে। তা ছাড়া দুই পাইলটের একজনকে কার্গো দরজাটি খুলতে হবে। দরজাটি যেহেতু ইঞ্জিনের খুব কাছে, তাই দরজা খোলার সাথে সাথে প্রবল বায়ুচাপ সৃষ্টি হবে। এটা একটা বড় ঝুঁকি। এতে একজনের প্রাণহানিও ঘটতে পারে। তার চেয়েও বড় কথা, বিমান লাস পামাসে অবতরণের পর কী হবে? পুলিশ যদি বিমানে একটাও মাদকের ব্যাগ না পায়, তাহলে তো তারা আমাদেরই ধরবে যে, তোমরা ওগুলো অন্য কোথাও রেখে এসেছ।
এসব বলতে বলতে কাছে চলে এলো গ্র্যান কানারিয়া বিমানবন্দর। কো-পাইলট এবার স্যাটেলাইট ফোনটি বন্ধ করে দিলেন। আফ্রিকায় পৌঁছার নির্ধারিত সময়সীমার ৪৫ মিনিট আগে বিমানটি লা পামাসের মাটি স্পর্শ করল। স্পেন সরকারকে আগেই সব জানিয়ে রেখেছিল ইন্টারপোল। পুলিশের একটি বিরাট দল অপেক্ষা করছিল। একদল মুখোশধারী পুলিশ কর্মকর্তা বিপুল বিক্রমে বিমানে ঢুকে পড়ল। বিমানের ভেতরে যেন ঝড় বয়ে গেল। এরপর তারা বিমানের পাইলট, কো-পাইলট ও স্টুয়ার্ডসকে ধরে বাইরে নিয়ে এলো। প্রথমে তাদের বিমানবন্দরের সেলে নেয়া হলো। পরে সেখান থেকে পাঠিয়ে দেয়া হলো পামাসের পুলিশ সদর দফতরে।
রাবার প্যাডে শয্যা
একটা সময় এসে তারা বুঝতে পারলেন যে, স্পেনিশ পুলিশ তাদেরকেই মাদক পাচারকারী ভাবছে। এরপর তাদেরকে ভূগর্ভের নির্জন প্রকোষ্ঠে আটকে রাখা হলো। প্রকোষ্ঠের আয়তন ২দ্ধ৪ মিটার। এর সামনের মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত লোহার শিক। দিনের আলো দেখা যায় না। কোনো টয়লেট নেই। বেসমেন্টের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঘুমানোর জন্য তারা পেল একটি করে রাবারের প্যাড।
এ দিকে ‘বড় শিকার’ ধরার কৃতিত্বে স্পেনে আনন্দের বন্যা বয়ে যেতে লাগল। পত্রিকায় সেই বিমানটির ছবি ছাপা হলো, তার সামনে মাদকভর্তি প্যাকেটগুলো।
অন্য দিকে চার্টার কোম্পানির সিইও এরিক ভেবে পেলেন না কী হতে কী হয়ে গেল। ইন্টারপোল তার সাথে যেসব ওয়াদা করেছিল, একে একে সবই তারা ভেঙে ফেলল। যারা ঘটনার শিকার, তাদেরই বানানো হলো আসামি। তার ওপর তাদের পক্ষের আইনজীবী প্রথম দিকে কিছুই করতে পারছিলেন না। কেননা সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসেবে যেসব দলিল তার দেখা প্রয়োজন, কিছুই তাকে দেয়া হলো না। বলা হলো, এসব ক্লাসিফায়েড; তাই দেয়া যাবে না। এভাবে চার সপ্তাহ কেটে গেল, কিছুই হলো না। এসব মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন। আর যাকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে, তিনি কিছুই করলেন না।
এভাবে কেটে গেল আট সপ্তাহ। বিমানের ক্রুরা তখনো ভূগর্ভের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দী, বিমানটিও আটক স্পেনে। কোম্পানি প্রতিদিন গচ্চা দিচ্ছে হাজার হাজার ডলার।
অবশেষে অক্টোবর মাসে লুকার্ট ও তার দুই সহকর্মীকে কারাধ্যক্ষের কাছে নেয়া হলো। লুকার্টের মা ও বাবা ৬০ হাজার ইউরো জামিনে তাদের মুক্ত করলেন। তারা মুক্তি পেলেন বটে, তবে স্পেন ছাড়ার অনুমতি পেলেন না। অবশ্য বিমানটি তার মালিককে ফিরিয়ে দেয়া হলো।
এ অবস্থায় এক দিন বৈরুতে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন এক নারী। তিনি নিজের পরিচয় দিলেন রাইমা তাউক বলে। জানালেন, ৩০ হাজার ইউরো দেয়া হবে এই অঙ্গীকারে তিনি ওই বিমানের যাত্রী হতে রাজি হয়েছিলেন। তাকে বলা হয়েছিল, বিমানে কিছু নিষিদ্ধ জিনিস থাকবে, তবে সেটা যে কোকেন তা তিনি জানতেন না।
রাইমাকে কে ভাড়া করেছিল? করেছিল যে লোকটি, সে আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তাদের খুবই চেনা একজন। তার নাম আলি ক্লেইলাত। বিশ্বব্যাপী মাদক ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার একজন বড় চাঁই। তার আছে কমপক্ষে ছয়টি ডাকনাম। জন্মসালেও আছে ভিন্নতা কখনো ১৯৭০, কখনো বা ১৯৬৩। তার আছে লাইবেরিয়া, দ্য নেদারল্যান্ডস, ভেনিজুয়েলা ও লেবাননের পাসপোর্ট।
২০১১ সালে ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে এক টনেরও বেশি মাদকের একটি চালান আটক হয়। এর সাথে জড়িত সন্দেহে ক্লেইলাতকে ধরতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিযান শুরু হয়। একপর্যায়ে ধরা পড়ে সে। বর্তমানে বেলজিয়ামের একটি কারাগারে আটক রয়েছে। সেদেশের আদালত তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়ার পক্ষে রায় দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি দেবে বিচার মন্ত্রণালয়।
ক্লেইলাতের সাঙ্গপাঙ্গরাই আর্তুরো মিচেলেনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঘটনাটিও ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে ১৮ জন, যাদের নয়জন বলিভারিয়ান ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য, দু’জন বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অসামরিক সদস্য, গোয়েন্দা সংস্থার একজন সদস্য এবং একজন বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক। এ কাজে সহযোগিতার জন্য প্রত্যেকে পেয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থাত সর্বনিম্ন ১৯ হাজার থেকে এক লাখ ৮৮ হাজার ইউরো। ধারণা করা হয়, এফরেইন পেরেদা নামে এক দুর্বৃত্তই কলম্বিয়ান মাদকচক্র ও স্থানীয় অপরাধীদের মধ্যে যোগাযোগটি ঘটিয়ে দিয়েছে।
মামলা শেষ হয়েছে। লুকার্ট ও তার ক্রুরা স্বদেশ জার্মানিতে ফিরে গেছেন। পুলিশ লুকার্টকে একটি নতুন নাম দিয়েছে। তিনি এখন নতুন শহরে নতুন নাম-পরিচয়ে বসবাস করেন। কোনো অসুবিধা নেই, তবু মনের তিক্ততা কাটে না। লুকার্ট তিক্ত গলায় বলেন, ‘কিছুই আগের মতো নয়। ভালো লাগে না।’
নাম বদলে গেছে, তবে পেশা আগেরটাই আছে। এখনো লুকার্ট দুনিয়াজুড়ে প্রাইভেট ক্লায়েন্টদের বিমান চালান। তবে যাত্রীদের আগে যেমন বিশ্বাস করতেন, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি করেন অবিশ্বাস। আর বিমান নিয়ে কখনো ভেনিজুয়েলা বা লেবানন যান না।
অপরাধ দমনের জন্য একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যত ব্যবস্থা থাকে, তেমনটি আর কোথাও খুব বেশি দেখা যায় না। এখানে থাকে অনেক ভিডিও ক্যামেরা, নিরাপত্তাকর্মী এবং স্ক্যানার। এ ছাড়া প্রত্যেক যাত্রীর নাম তালিকাভুক্ত থাকে। প্রত্যেক পাইলটকে স্ক্যান করে তবেই বিমানবন্দরে ঢুকতে দেয়া হয়। এমনকি নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদেরও নিরাপত্তা তল্লাশির পরই ঢুকতে দেয়া হয়। সব মিলিয়ে এমন কড়াকড়ি, কেউ যে ট্যাঁ ফো করবে, তার উপায় নেই।
এরকম অবস্থা সারা বিশ্বের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেরই। ভেনিজুয়েলার তৃতীয় বৃহত্তম শহর ভ্যালেনসিয়ার আর্তুরো সিচেলেনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটিও তার ব্যতিক্রম নয়। এখানেও বলিভারিয়ান ন্যাশনাল গার্ডের কম্যান্ডো-২৪ এর প্রহরীরা সর্বক্ষণ টহল দিয়ে চলেছে। যখন যাকে খুশি থামাচ্ছে, তল্লাশি করছে, তল্লাশির নামে বেফজুল হয়রানিও করছে। এ নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগের অন্ত নেই।
নিরাপত্তার নামে এসব কড়াকড়ি-বাড়াবাড়ি নিয়ে যার যত অভিযোগই থাকুক, একে তাচ্ছিল্য করতে পারেন একজনই; তিনি কার্ল লুকার্ট। কারণ সব কড়াকড়ির মধ্যেও এমন ঘটনা ঘটেছিল, যা তার জীবনকে আমূল পাল্টে দিয়েছে। কিভাবে? জানতে হলে আসুন একটু পেছনে ফিরে যাই।
২০১২ সালের আগস্ট মাসের কোনো এক দিনে একটি প্রাইভেট জেট বিমান চালিয়ে আর্তুরো মিচেলেনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসেছিলেন লুকার্ট। এ ধরনের বিমান ভাড়া করেন সাধারণত কোনো কোম্পানির সিইও, তারকা কিংবা ধনপতিরা। পাইলট লুকার্ট ভেবেছিলেন, আর্তুরো বিমানবন্দরে তার যাত্রাবিরতিটা হবে সংক্ষিপ্ত। কিন্তু মানুষ যা ভাবে, তা কি আর হয়? ‘স্বাভাবিকভাবে’ এ ক্ষেত্রেও হলো একেবারে বিপরীত। এবং বৈপরীত্যটা এমন যে, লুকার্টের সামনে তখন দু’টি বিকল্প রইল এক. মৃত্যু, দুই. মাদক বহনকারী হওয়া।
এটা ঘটল এভাবে আগস্টের সেই রাতে পাইলট লুকার্ট হঠাৎ দেখলেন তার বিমানের দিকে মেশিনগানের ব্যারেল তাক করে এগিয়ে আসছে ন্যাশনাল গার্ডের একদল সৈন্য। তিনি চেঁচিয়ে জানালেন, ‘নো! নো ব্যাগেজ!’ কিন্তু কে শোনে কার কথা! লুকার্ট দেখলেন, ওরা একে একে ৪৭টি প্লাস্টিক ব্যাগ তার জেট বিমানে ঠেসে দিলো। এসব ব্যাগভর্তি মাদক।
সুন্দরী ও গোপন কথা
কার্ল লুকার্ট যে বাণিজ্যিক বিমানটি চালান, তুষারধবল সেই বিমানটি ১৯ জন আরোহী বহন করতে পারে, আর কোথাও না থেমে একনাগাড়ে উড়তে পারে সাত হাজার মাইল। পাইলট লুকার্ট মজা করে বলেন, ‘আরে আমি তো ট্যাক্সিক্যাব চালাই। ট্যাক্সিক্যাব রাস্তায় চলে, আর আমারটা আকাশেএই যা তফাৎ।’
কথাটা পুরোপুরি অসত্য যে, তাও নয়। আগেই বলেছি, সিইও, তারকা বা ধনাঢ্য মানুষেরাই নিজেদের প্রয়োজনে এ ধরনের বিমান ভাড়া করেন। সেদিনও একটি চার্টার কোম্পানির কাছ থেকে বিমানটি ভাড়া নিয়েছিল বৈরুতের প্রিন্সেস অ্যাভিয়েশন। কথা ছিল মরক্কো থেকে ছেড়ে বিমানটি ত্রিনিদাদ-টোব্যাগো হয়ে ভেনেজুয়েলা যাবে। সেখানে যাত্রাবিরতি শেষে আফ্রিকার বেনিনে।
সেদিন বিমানটিতে যাত্রী ছিলেন একজন রাইমা তাউক। ৩৭ বছর বয়সী এই নারী খুবই আকর্ষণীয়া, খোলামেলা, বন্ধুভাবাপন্ন ও চমৎকার পোশাক পরিহিতা। বিমানে ওঠার আগে পাইলট লুকার্টের সাথে তার নিয়মমাফিক কিছু কথাবার্তা হয়। লুকার্ট জানলেন, মহিলা একজন ফ্যাশন ডিজাইনার। এ কাজে অনেক পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। বৈরুত, দুবাই ও সিডনিতে তার অফিস আছে।
বিমানে উঠেও পাইলটের সাথে অনেক কথা বললেন রাইমা। বৈরুতের জীবন, ভেনেজুয়েলায় তার বন্ধুর অপেক্ষা ইত্যাদি। বিমানের তরুণ স্টুয়ার্ডসদেরও অনেক সময় দিলেন তিনি।
নিরাপদ অবতরণ
প্রথম গোলটি বাধল বিমানটি টোবাগোর একটি দ্বীপে ল্যান্ড করার পর। রাইমা চান তিনি ওই রাতটা হিলটন হোটেলে কাটাবেন। কিন্তু হিলটন হোটেল তো পাশের ত্রিনিদাদে। ত্রিনিদাদ ও টোব্যাগোর মাঝখানে যে সাগরের বিপুল জলরাশি! বিষয়টা জানা ছিল না রাইমার। তা ছাড়া ওই দেশে ঢোকার এন্ট্রি ভিসাও ছিল না তার। কিন্তু এসব তো আইনের অসুবিধা, পকেটে মালকড়ি থাকলে দুনিয়ার সব অসুবিধারই ‘সুবিধা’ হয়ে যেতে সময় লাগে না। কাজে কাজেই পাইলট লুকার্ট কোরাল রিফ হোটেলে রাইমার থাকার ব্যবস্থা করে ফেললেন। হোটেল থেকে রোলস রয়েস গাড়ি এসে তাকে নিয়ে গেল।
পরদিন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটের সময় ভেনিজুয়েলার উদ্দেশে উড়াল দিলো লুকার্টের বিমান। ওখান থেকে ৯০ মিনিট লাগবে ভেনিজুয়েলা যেতে। বিমান চলাকালে ককপিটে এলেন রাইমা। স্যাটেলাইট ফোনে কার সাথে যেন কথা বললেন। তবে কী বললেন কিছুই বুঝলেন না পাইলট। কারণ কথা হলো আরবিতে। তবে রাইমাকে বেশ খুশি খুশি মনে হলো।
ভেনিজুয়েলা এসে বিমান নিরাপদে অবতরণ করল। রাইমা নেমে হোটেলের উদ্দেশে চলে গেলেন। জ্বালানি তেল ভরতে হবে বলে বিমানে রয়ে গেলেন লুকার্ট। বিমানে তেল ভরা হচ্ছে, এ সময় তিনি অবাক হয়ে দেখলেন, ইউনিফর্ম পরা বেশ কিছু লোক বিমানটি ঘিরে রেখেছে। তেল ভরা শেষ হলে বিমানটিকে ওই রাতের জন্য পার্কিং স্পটে নিয়ে গেলেন লুকার্ট। সেখানকার কর্মীরা তাকে বললেন বিমানটিকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে রাখতে। লুকার্ট অবাক, ব্যাপারটা কী! এরকম অনুরোধ তো করার কথা নয় (অনেক পরে অবশ্য তিনি এর কারণ ধরতে সমর্থ হন। এর অর্থ হলো, বিমানের কার্গো দরজাটিকে বিমানবন্দরের বাতি ও নজরদারি ক্যামেরার আওতার বাইরে নিয়ে যাওয়া)!
এর একটু পরই বিমানবন্দরের এক কর্মী এসে লুকার্টের হাতে একটি মোবাইল ফোন ধরিয়ে দিলো। ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে এলো ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে একজনের গলা, যার সারমর্ম হলো, বিমানের দরজা খোলা রেখে লুকার্ট ও তার কর্মীদের ওই রাতে এক হোটেলে চলে যেতে হবে। হোটেলে পৌঁছে দেয়ার জন্য গাড়ি বাইরে অপেক্ষা করছে।
লুকার্ট রাজি হন না। এটা কি সম্ভব? তা ছাড়া বিমানের ক্রুরাও হোটেলে যেতে নারাজ। কেননা বিমান ছাড়ার শিডিউল খুব ভোরে। হোটেলে গেলে সেখান থেকে আসতেই সময় পেরিয়ে যাবে। বিমানে থাকলে সেই সময়টা তো ঘুমানো যাবে। তার চেয়েও বড় কথা, বিমানে তালা না লাগিয়ে রেখে যাওয়া সিকিউরিটি প্রটোকলের লঙ্ঘন। এমন বেআইনি কাজ লুকার্ট করতেই পারেন না। টেলিফোনকারীকে এসব যুক্তি দেখিয়ে লাইন কেটে দেয়ার একটু পর এলো রাইমার ফোন। তারও একই কথা, ‘রাতটা হোটেলে কাটাও। ভালো হবে।’ মহাবিরক্ত হলেন লুকার্ট।
‘আমরা একেবারে অসহায়’
এরপর সবাই বিছানায় চলে গেলেন, কিন্তু নানা চিন্তা ও দুশ্চিন্তায় ঘুম আর আসে না। এলেও একটু পর ভেঙে যায়। রাত ২টার দিকে দরজায় ঠক ঠক শব্দ শোনা গেল; বেশ ক’বার। উঁকি দিতেই দেখা গেল মোবাইল ফোন হাতে দাঁড়িয়ে এক লোক। কাকে যেন বলছে, ‘সব কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি বিমানে তুলতে হবে।’
লুকার্ট কিছু বুঝে ওঠার আগেই সিনেমার দৃশ্যের মতো ঘটনাগুলো ঘটে যেতে লাগল। ঘোর কালো রঙের দুটো গাড়ি চলে এলো। সেখান থেকে নেমে একদল অস্ত্রধারী খুলে ফেলল বিমানের কার্গো দরজা। ‘এসব কী হচ্ছে, বন্ধ করো এসব!’ চেঁচালেন লুকার্ট। জবাবে তার দিকে উদ্যত হলো অস্ত্র। এরপর প্লাস্টিকের সাদা প্যাকেটে ভরে যেতে লাগল বিমান। প্রত্যেক প্যাকেটের গায়ে লেখা ‘রেড ক্রস’। সাদা প্যাকেটগুলো দেখে লুকার্টের মনে হলো যেন ‘তুষারধস হয়েছে। কিন্তু আমরা ছিলাম একেবারেই অসহায়’।
পুরো ‘কাজ’টি সারতে লাগল ২০ মিনিটের মতো। মোট ৪৭টি প্যাকেট উঠল বিমানে। কার্গো বে, যাত্রীদের আসন এবং মাঝখানের চলার পথ সবখানেই ছড়িয়ে আছে এসব প্যাকেট। পুরো সময়টায় সাত-আটজন অস্ত্রধারী দাঁড়িয়েছিল বিমানের সামনে। চোখের সামনে এসব দেখতে দেখতে লুকার্ট ও তার সহকর্মীরা বুঝে গেলেন, তাদের ডাকে কেউ আসবে না। পুরো বিমানবন্দরই এতে জড়িত। আর পুলিশকে খবর দেয়ারও উপায় ছিল না।
‘কাজ’ সেরে অন্ধকারের প্রাণীরা ফের অন্ধকারে মিলিয়ে গেল। লুকার্ট ফোন করলেন সুইজারল্যান্ডে; বিমানটি চার্টার করেছে যে কোম্পানি তার সিইও এরিক ওয়েইজকফকে। সব জানিয়ে তাকে বললেন, ‘আমাদের আসলে কিছুই করার ছিল না।’ লুকার্ট যখন কথা বলছিলেন, তখন দরজায় আবার টোকা। লুকার্ট তার কো-পাইলটকে পাঠালেন কী ব্যাপার দেখতে। কো-পাইলট ফিরে এলে দেখা গেল, আতঙ্কে তার মুখ রক্তশূন্য। তিনি জানালেন ‘লোকটি বলে গেছে, আমরা যদি এখনই বিমানটি ওড়াই, তাহলে আমাদের ওরা খুন করবে।’ রিয়ার উইন্ডো দিয়ে লুকার্ট দেখলেন, হাল্কা মেশিনগান নিয়ে বিমানের পাখার নিচে দাঁড়িয়ে আছে অস্ত্রধারীরা।
লুকার্ট ভাবতে বসলেন কী করা যায়। এই বিমানবন্দরটি রাতে বন্ধ থাকে। মধ্যরাতের পর থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত এখানে কোনো বিমান ওঠানামা করে না। লুকার্ট চেষ্টা করলেন টাওয়ারের সাথে যোগাযোগ করতে। কিন্তু কেউ ফোন ধরে না। লুকার্ট এবার ভাবলেন, এত বস্তা যে ভরা হয়েছে, বিমান কি এর ভার বইতে পারবে? তিনি ছোট একটা পরীক্ষা করলেন। দেখা গেল, ঠিক আছে। ওরা ঠিকই জানে, এই বিমান কতটা ভার বহনে সক্ষম।
শত্রু যখন অন্দরে
পরদিন সকালে বিমানটি আকাশে ডানা মেলল। মিনিট দশেক উড়তে-না-উড়তেই স্যাট-ফোনে কল এলো। এক ব্যক্তি ইংরেজিতে বলল, ‘যেখানে যেতে বলা হয়েছে বিমান যেন ঠিক ঠিক সেখানে যায়। তাহলেই তোমরা জীবন নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে। কথাটা মনে থাকে যেন।’ দেখা গেল, ওরা শুধু পাইলট ও ক্রুদের স্যাট ফোন নাম্বার জানে তা নয়, তাদের দেশ কোনটি, তাদের ঠিকানা এবং আরো অনেক কিছু জানে।
এ দিকে সুইজারল্যান্ডে বিমানটির চার্টার কোম্পানির সদর দফতরে ততক্ষণে তুলকালাম শুরু হয়ে গেছে। নানা মুনি নানা মত দিচ্ছে। এর কারণও অবশ্য আছে। ২০০৪ সালে কারাকাসে এয়ার লুক্সরের একটি ফ্লাইট থেকে বিপুল মাদক উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় বিমানটি বাজেয়াপ্ত করা হয়, পাইলট ও কো-পাইলট দু’জনকেই দীর্ঘ কারাবাস করতে হয়। ঘটনাটি মনে করে আঁৎকে ওঠেন কোম্পানির সিইও এরিক। বিমানটি বাজেয়াপ্ত হলে কী হবে, ওটি তো তার কোম্পানির নয়, এক জার্মান ব্যবসায়ীর।
তবে বিমানের পাইলট লুকার্টের প্রতি কোম্পানির ‘৯৯ ভাগ’ আস্থা রয়েছে। বাকি এক ভাগ হলো সন্দেহ যে, আসলেই তো লুকার্ট এই অপকর্মে জড়িত থাকতেও পারে!
শনিবার পেরিয়ে রোববার এলো। কিন্তু এরিক এমন কাউকে পেলেন না যে, এই বিপদে তাকে একটুখানি সাহায্য করতে পারে। গুগল ঘেঁটে তিনি এবার ইন্টারপোলের নাম্বার জোগাড় করলেন। কথাও হলো এক অফিসারের সাথে। মাদক পাচারের তথ্য জানানোর জন্য অফিসার তাকে ধন্যবাদও দিলেন। ব্যস, ওই পর্যন্তই। তারপর তার আর কোনো খোঁজ নেই।
অন্য দিকে লুকার্টের বিমানের স্যাট-ফোনটি ক্রমাগত বেজেই চলেছে। ধরতেই এক ব্যক্তি জানতে চাইল, বিমানটি এখন ঠিক কোথায় আছে। প্রশ্ন শুনে ক্রুরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। তাদের ধারণা ছিল, গ্রাউন্ড থেকেই বুঝি তাদের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। সর্বশেষ ফোনকলে নিশ্চিত হওয়া গেল, তা নয়।
তবে ক্রুরা তখনো নিশ্চিত ছিল না, আসলে প্লাস্টিকের ভেতরে কী রয়েছে। তারা খুলে দেখতেও ভয় পাচ্ছিল, যদি ওতে বোমা থাকে! আর যদি বিস্ফোরক থাকে এবং জিপিএস ট্র্যাকারের সাহায্যে ওরা দেখতে পায় যে, আমরা ওদের দেখানো পথে চলছি না, তাহলে বিমানটি যদি উড়িয়ে দেয়!
এর মধ্যে লুকার্টের ফোনে রাইমার কল এলো। সে খুব দুঃখ প্রকাশ করল। বারবার ‘সরি!’ বলে জানাল যে, যেভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, কাজ কিন্তু সেভাবে এগোচ্ছে না। এ দিকে লুকার্ট তো রেগে আগুন। সে ফোনে যা-তা বলল রাইমাকে। বলল, তুমি আমাদের সবাইকে মারতে বসেছ। রাইমা সব শুনেও শান্ত গলায় বলল, তোমাদের যেভাবে বলা হয়েছে, তা-ই করো। বেনিন যাও। সেখানে আমি তোমাদের জন্য জ্বালানির ব্যবস্থা করব। মাল খালাস করেই তোমরা নিরাপদে ইউরোপের দিকে চলে যেতে পারবে।
ওরা রাইমার সব কথা শুনল, তবে এক বর্ণও বিশ্বাস করল না। বরং লুকার্ট ও তার কো-পাইলট ঠিক করল, বিমানটিকে তারা কিছুতেই আফ্রিকা (বেনিন) নিয়ে যাবে না। তবে হ্যাঁ, তার আগে নিজ নিজ পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। দু’জনই পরিবারে ফোন করে নিরাপদ কোনো জায়গায় সরে যেতে বলল।
বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট
এ দিকে চার্টার কোম্পানির সুইজারল্যান্ড সদর দফতরে ফোন এলো ইন্টারপোলের। তাদের তদন্তকারীরা ভেনিজুয়েলায় খোঁজ নিয়ে জেনেছে যে, একটি বিমান চুরি হয়েছে। ইন্টারপোল আরো বলল, বিমানটি বেনিনে ল্যান্ড করলে অসুবিধা হবে। বিমান বা ক্রু কাউকেই ওই দেশের বাইরে আনা সম্ভব হবে না। তবে ক্রুদের পরিবারের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ পাঠাল ইন্টারপোল।
কোম্পানির সদর দফতরে তখন আরো কাজ চলছে। বিশেষজ্ঞরা বসে গেছেন হিসাব কষতে যে, ট্যাঙ্কে যে পরিমাণ তেল আছে তা দিয়ে কদ্দুর যাওয়া যাবে। ইউরোপের সব গন্তব্যের মধ্যে নিকটতম হচ্ছে গ্র্যান ক্যানারিয়া দ্বীপ। সেখানে বিমানটিকে অবতরণ করানোর বিষয়ে ইন্টারপোলও একমত হলো। বলল, ক্রুদের নিরাপত্তায় সব রকম ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ দিকে বিমানের ট্রান্সমিটিং লোকেশান ইনফরমেশন বন্ধ করে দিলেন লুকার্ট। এর ফলে বিমানটি তখন কার্যত অদৃশ্য হয়ে গেল। অর্থাৎ ভূপৃষ্ঠে বসে কোনোভাবেই জানা সম্ভব হবে না যে, বিমানটি কোথায়। এরপর পাইলট বিমানটি নিয়ে গেলেন ৪৬ হাজার ফুট উঁচুতে (সাধারণত, যাত্রীবাহী জেট বিমানগুলোই এরকম উচ্চতায় চলাচল করে)। এ অবস্থায় মাদক ব্যবসায়ীরা যখন ফোন করে বিমানের অবস্থান জানতে চাইল, বিমান থেকে জানানো হলো যে, বিমান আফ্রিকার দিকে এগিয়ে চলছে।
এবার ফোনে বলা হলো বারকিনা ফাসো যেতে। আফ্রিকার এই দেশটির বেশ কয়েকটা বিমানবন্দরের নাম বলে জানানো হলো যে, এর যেকোনো একটিতে লুকার্ট যেন তার বিমানটি নামান। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যেসব বিমানবন্দরের নাম বলা হয়েছে, তার বেশির ভাগের মালিকই সেনাবাহিনী। কিন্তু লুকার্টের গ্লোবাল এক্সপ্রেস বিমানটি তো সবখানে নামতে পারে না। এর পাখার দৈর্ঘ্য ৩০ মিটার এবং এটি নিরাপদ অবতরণের জন্য আট শ’ মিটার দীর্ঘ রানওয়ে লাগবে। আর রানওয়ের ভার বহন ক্ষমতা হতে হবে ৪৫ টন।
এ অবস্থায় লুকার্ট আবার তার বস এরিককে ফোন করলেন। বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে কথা বললেন তারা। যেমন, মাদকের প্যাকেটগুলো আটলান্টিকে ফেলে দিলে কেমন হয়? লুকার্ট বললেন,্ এ কাজটি করতে গেলে বিমানটিকে সাগরের যথাসম্ভব কাছাকাছি নামিয়ে ওড়াতে হবে। এতে জ্বালানি খরচ হবে বেশি। তাহলে গ্র্যান ক্যানারিয়া পৌঁছার মতো জ্বালানির ঘাটতি পড়ে যাবে। তা ছাড়া দুই পাইলটের একজনকে কার্গো দরজাটি খুলতে হবে। দরজাটি যেহেতু ইঞ্জিনের খুব কাছে, তাই দরজা খোলার সাথে সাথে প্রবল বায়ুচাপ সৃষ্টি হবে। এটা একটা বড় ঝুঁকি। এতে একজনের প্রাণহানিও ঘটতে পারে। তার চেয়েও বড় কথা, বিমান লাস পামাসে অবতরণের পর কী হবে? পুলিশ যদি বিমানে একটাও মাদকের ব্যাগ না পায়, তাহলে তো তারা আমাদেরই ধরবে যে, তোমরা ওগুলো অন্য কোথাও রেখে এসেছ।
এসব বলতে বলতে কাছে চলে এলো গ্র্যান কানারিয়া বিমানবন্দর। কো-পাইলট এবার স্যাটেলাইট ফোনটি বন্ধ করে দিলেন। আফ্রিকায় পৌঁছার নির্ধারিত সময়সীমার ৪৫ মিনিট আগে বিমানটি লা পামাসের মাটি স্পর্শ করল। স্পেন সরকারকে আগেই সব জানিয়ে রেখেছিল ইন্টারপোল। পুলিশের একটি বিরাট দল অপেক্ষা করছিল। একদল মুখোশধারী পুলিশ কর্মকর্তা বিপুল বিক্রমে বিমানে ঢুকে পড়ল। বিমানের ভেতরে যেন ঝড় বয়ে গেল। এরপর তারা বিমানের পাইলট, কো-পাইলট ও স্টুয়ার্ডসকে ধরে বাইরে নিয়ে এলো। প্রথমে তাদের বিমানবন্দরের সেলে নেয়া হলো। পরে সেখান থেকে পাঠিয়ে দেয়া হলো পামাসের পুলিশ সদর দফতরে।
রাবার প্যাডে শয্যা
একটা সময় এসে তারা বুঝতে পারলেন যে, স্পেনিশ পুলিশ তাদেরকেই মাদক পাচারকারী ভাবছে। এরপর তাদেরকে ভূগর্ভের নির্জন প্রকোষ্ঠে আটকে রাখা হলো। প্রকোষ্ঠের আয়তন ২দ্ধ৪ মিটার। এর সামনের মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত লোহার শিক। দিনের আলো দেখা যায় না। কোনো টয়লেট নেই। বেসমেন্টের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঘুমানোর জন্য তারা পেল একটি করে রাবারের প্যাড।
এ দিকে ‘বড় শিকার’ ধরার কৃতিত্বে স্পেনে আনন্দের বন্যা বয়ে যেতে লাগল। পত্রিকায় সেই বিমানটির ছবি ছাপা হলো, তার সামনে মাদকভর্তি প্যাকেটগুলো।
অন্য দিকে চার্টার কোম্পানির সিইও এরিক ভেবে পেলেন না কী হতে কী হয়ে গেল। ইন্টারপোল তার সাথে যেসব ওয়াদা করেছিল, একে একে সবই তারা ভেঙে ফেলল। যারা ঘটনার শিকার, তাদেরই বানানো হলো আসামি। তার ওপর তাদের পক্ষের আইনজীবী প্রথম দিকে কিছুই করতে পারছিলেন না। কেননা সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসেবে যেসব দলিল তার দেখা প্রয়োজন, কিছুই তাকে দেয়া হলো না। বলা হলো, এসব ক্লাসিফায়েড; তাই দেয়া যাবে না। এভাবে চার সপ্তাহ কেটে গেল, কিছুই হলো না। এসব মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন। আর যাকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে, তিনি কিছুই করলেন না।
এভাবে কেটে গেল আট সপ্তাহ। বিমানের ক্রুরা তখনো ভূগর্ভের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দী, বিমানটিও আটক স্পেনে। কোম্পানি প্রতিদিন গচ্চা দিচ্ছে হাজার হাজার ডলার।
অবশেষে অক্টোবর মাসে লুকার্ট ও তার দুই সহকর্মীকে কারাধ্যক্ষের কাছে নেয়া হলো। লুকার্টের মা ও বাবা ৬০ হাজার ইউরো জামিনে তাদের মুক্ত করলেন। তারা মুক্তি পেলেন বটে, তবে স্পেন ছাড়ার অনুমতি পেলেন না। অবশ্য বিমানটি তার মালিককে ফিরিয়ে দেয়া হলো।
এ অবস্থায় এক দিন বৈরুতে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন এক নারী। তিনি নিজের পরিচয় দিলেন রাইমা তাউক বলে। জানালেন, ৩০ হাজার ইউরো দেয়া হবে এই অঙ্গীকারে তিনি ওই বিমানের যাত্রী হতে রাজি হয়েছিলেন। তাকে বলা হয়েছিল, বিমানে কিছু নিষিদ্ধ জিনিস থাকবে, তবে সেটা যে কোকেন তা তিনি জানতেন না।
রাইমাকে কে ভাড়া করেছিল? করেছিল যে লোকটি, সে আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তাদের খুবই চেনা একজন। তার নাম আলি ক্লেইলাত। বিশ্বব্যাপী মাদক ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার একজন বড় চাঁই। তার আছে কমপক্ষে ছয়টি ডাকনাম। জন্মসালেও আছে ভিন্নতা কখনো ১৯৭০, কখনো বা ১৯৬৩। তার আছে লাইবেরিয়া, দ্য নেদারল্যান্ডস, ভেনিজুয়েলা ও লেবাননের পাসপোর্ট।
২০১১ সালে ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে এক টনেরও বেশি মাদকের একটি চালান আটক হয়। এর সাথে জড়িত সন্দেহে ক্লেইলাতকে ধরতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিযান শুরু হয়। একপর্যায়ে ধরা পড়ে সে। বর্তমানে বেলজিয়ামের একটি কারাগারে আটক রয়েছে। সেদেশের আদালত তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়ার পক্ষে রায় দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি দেবে বিচার মন্ত্রণালয়।
ক্লেইলাতের সাঙ্গপাঙ্গরাই আর্তুরো মিচেলেনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঘটনাটিও ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে ১৮ জন, যাদের নয়জন বলিভারিয়ান ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য, দু’জন বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অসামরিক সদস্য, গোয়েন্দা সংস্থার একজন সদস্য এবং একজন বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক। এ কাজে সহযোগিতার জন্য প্রত্যেকে পেয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থাত সর্বনিম্ন ১৯ হাজার থেকে এক লাখ ৮৮ হাজার ইউরো। ধারণা করা হয়, এফরেইন পেরেদা নামে এক দুর্বৃত্তই কলম্বিয়ান মাদকচক্র ও স্থানীয় অপরাধীদের মধ্যে যোগাযোগটি ঘটিয়ে দিয়েছে।
মামলা শেষ হয়েছে। লুকার্ট ও তার ক্রুরা স্বদেশ জার্মানিতে ফিরে গেছেন। পুলিশ লুকার্টকে একটি নতুন নাম দিয়েছে। তিনি এখন নতুন শহরে নতুন নাম-পরিচয়ে বসবাস করেন। কোনো অসুবিধা নেই, তবু মনের তিক্ততা কাটে না। লুকার্ট তিক্ত গলায় বলেন, ‘কিছুই আগের মতো নয়। ভালো লাগে না।’
নাম বদলে গেছে, তবে পেশা আগেরটাই আছে। এখনো লুকার্ট দুনিয়াজুড়ে প্রাইভেট ক্লায়েন্টদের বিমান চালান। তবে যাত্রীদের আগে যেমন বিশ্বাস করতেন, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি করেন অবিশ্বাস। আর বিমান নিয়ে কখনো ভেনিজুয়েলা বা লেবানন যান না।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1266)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
March
(1092)
-
▼
Mar 26
(25)
- জীবন যেভাবে বদলে যায় by হুমায়ুন সাদেক চৌধুরী
- সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান যা দিলেন by রজার কোহেন
- স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজের ...
- আস্থার সংকটে পুলিশ by আলী ইমাম মজুমদার
- খালেদার মামলায় নজর রাখছে যুক্তরাজ্য
- মালদ্বীপে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে ৪ বাংলাদেশী নিহত
- আমরা ধ্বংস চাই না, শান্তি চাই -প্রধানমন্ত্রী
- এগারো বছর পার করলো র্যাব
- স্টেথোস্কোপ, একে-৪৭ দুটোই থাকে পাক-ডাক্তারদের কাছে
- লি কুয়ান ইউ : একটি আশ্রয়, একটি বুরুজ
- বেনজিরের সেই জড়োয়া সেট নিলামে
- পশ্চিমা বিশ্বে ইহুদিবিদ্বেষ by মেহেদী হাসান
- সিটি নির্বাচন নিয়ে সিইসির সঙ্গে বৈঠকে সময় চাইলেন ব...
- রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলায় জঙ্গিবাদ উত্থানের আশঙ্কা -দ্য ...
- ৯ মাস ধরে হিমঘরে খোকনের লাশ
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক by ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম র...
- র-এর এজেন্ট পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর
- সালাহউদ্দিন নিখোজে মন্ত্রীদের বক্তব্য নিয়ে রহস্য
- গেদার মুখে রোমহর্ষক বর্ণনা by ওয়েছ খছরু
- এশিয়ার গোপন প্রাণঘাতী মাদক সুপারি
- আমরা কোনো মঞ্চ তৈরি করছি না
- রক্তের অক্ষরে লেখা জয়ের পতাকা by সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
- বাংলাদেশের মানুষ মুক্তি চায় by মেজর জেনারেল এ কে ম...
- দানিউব নদীর দানব -বিবিসি বাংলা
- দ্রুত নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দিতে বৃ...
-
▼
Mar 26
(25)
-
▼
March
(1092)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
স্পেশাল প্রতিবেদন
মধ্যপ্রাচ্য
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
দুর্নীতি
শিশু
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
কালবেলা
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
ফুটবল
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
সোহরাব হাসান
ইউরোপ
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
আলোকিত চট্টগ্রাম
সৌদি আরব
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
মালয়েশিয়া
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
স্বাস্থ্য
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
জ্যোতির্বিজ্ঞান
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
গবেষণা
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
মিসর
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
স্বপ্ন নিয়ে
ইরাক
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
জীবনযাপন
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
বরগুনা
কাজী সোহাগ
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
প্রকৃতি ও পরিবেশ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
মসজিদ
অরুণ কর্মকার
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
আশীষ-উর-রহমান
ইয়েমেন
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
Exclusive
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
জাতীয় নাগরিক পার্টি
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
ভেনেজুয়েলা
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
জনস্বাস্থ্য
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
আরব আমিরাত বা দুবাই
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
আবিষ্কার
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মণিপুর
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
মহাকাশচারী
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
যৌন অপরাধ
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
শিশুসাহিত্য
Hit
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
আর্জেন্টিনা
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট

No comments:
Post a Comment