নাজুক অর্থনীতি সামলানোই নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ

পারমাণবিক শক্তিধর ইসলামি রাষ্ট্র পাকিস্তানে নতুন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সরকার পরিবর্তিত হতে যাচ্ছে। দেশটিতে প্রথমবারের মতো একটি বেসামরিক সরকারের কাছ থেকে অপর একটি বেসামরিক সরকার ক্ষমতা নেবে। তালেবান জঙ্গিবাদ, ক্রমবর্ধমান চরমপন্থা এবং প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে জটিলতাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত ১৮ কোটি মানুষের এই দেশ। নতুন সরকারকে এসব সমস্যার প্রতিটিই সুষ্ঠুভাবে সামাল দিতে হবে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নাজুক অর্থনীতির বিষয়টি সামলানোই হবে নতুন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। পাকিস্তানে প্রবৃদ্ধির নিম্ন হার ও উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি লেগেই রয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিকে অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার কারণে গত পাঁচ বছর ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। চাকরির বাজারে প্রতিবছর যুক্ত হচ্ছে ২০ লাখ বেকার। কিন্তু সরকার তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।   নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হবে জ্বালানিসংকট মোকাবিলা করা। প্রবৃদ্ধির পথে এটিকেই আপাতত সবচেয়ে বড় অন্তরায় বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরকারি দলের অনুগত লোকজনের পকেট ভারী হলেও লক্ষ্য অর্জন অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। এ ছাড়া কয়লাখনিসমৃদ্ধ থর মরুভূমি অঞ্চলে উন্নয়নের উদ্যোগ কেবল আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফলে দেশটিতে বিদ্যুৎবিভ্রাট বেড়েছে। বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন খরচ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এ কারণে অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। ফেডারেশন অব পাকিস্তান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহসভাপতি আলি শেখ বলেন, জ্বালানিসংকটের সমাধান করাই হবে নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে কঠিন দায়িত্ব। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এ দেশে আসতে চান না। এ পরিস্থিতির পরিবর্তন জরুরি। করাচি স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাদিম নাকভি বলেন, ক্রমবর্ধমান রাজস্ব ঘাটতি পূরণের বিষয়টিকে নতুন সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কর আদায়ের প্রক্রিয়াটি সহজ ও উন্নত করতে হবে, তা যত অজনপ্রিয়ই হোক না কেন। সব সংকট সত্ত্বেও পাকিস্তানের বহু মানুষ মনে করে, পরিস্থিতি পরিবর্তন করা যেতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি নতুন সরকারের জন্য সুখকর না হলেও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মোকাবিলায় তাদের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে দিতে পারে।