পাশ্চাত্যের সামরিক বাজারে তুরস্কের আধিপত্য
একসময় বিদেশী অস্ত্র নির্মাতাদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল তুরস্ক দু’দশকের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের মাধ্যমে নিজেদের ড্রোনসহ অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের একটি প্রধান রফতানিকারক দেশে রূপান্তর করেছে।
বর্তমানে দেশটি উপসাগরীয় অঞ্চল, আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপের কিছু অংশসহ প্রায় ৪০টি দেশে অস্ত্র সরবরাহ করছে। বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত সশস্ত্র ড্রোনের প্রায় ৬৫ শতাংশই এখন জোগান দিচ্ছে দেশটি।
পাশ্চাত্যের দেশগুলো এখন নতুন করে নিজেদের সামরিক শক্তি সাজাচ্ছে। নিরাপত্তা জোটগুলো পুনর্গঠিত হচ্ছে। ন্যাটো সদস্য তুরস্ক এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাচ্ছে, পাশ্চাত্যের প্রতিরক্ষা বাজারে তুরস্ক নিজের অবস্থান আরো দৃঢ় করতে চাইছে।
ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযানের পর তাদের নিরাপত্তা নির্ভরতা পুনর্বিবেচনা করছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। পরিবর্তিত এমন পরিস্থিতিতে অনেক ন্যাটো মিত্র তুরস্ককে কেবল তাদের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তের একটি সামরিক দুর্গ হিসেবেই দেখছে না, বরং একটি সম্ভাব্য শিল্প অংশীদার হিসেবেও বিবেচনা করছে।
ইউক্রেনীয় বাহিনীর ব্যবহৃত উচ্চ-প্রোফাইল সশস্ত্র ড্রোনসহ তুর্কি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি ২০২১ সাল থেকে তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। গত বছর এই রফতানির পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আর তুরস্কের মোট রফতানির প্রায় ৩ দশমিক৭ শতাংশই হলো প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি।
পাশাপাশি, এই একই সময়ে ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি প্রায় চার গুণ বেড়ে ৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। এই প্রবৃদ্ধি বাইকার, টার্কিশ অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ এবং আরকা ডিফেন্স ও কালের মতো ছোট সংস্থাগুলোর পরিপক্বতা প্রকাশ করে। টেকসই রাষ্ট্রীয় সমর্থন, নমনীয় সরবরাহ চেইন এবং ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবস্থা পরিবর্তনের ইচ্ছার কারণে তুর্কি প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত বাজারে প্রবেশ করতে পেরেছে। এর তুলনায় পাশ্চাত্যের সরবরাহকারীরা সক্ষমতার ঘাটতির সাথে দীর্ঘ ক্রয় প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয় ক্রেতাদের।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, আগামী দু’বছরে তারা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা তাদের ঋণ পরিশোধ এবং আরো উন্নয়নের জন্য অর্থ জোগাতে গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব তৈরি করবে।
উত্তরে ইউক্রেন এবং দক্ষিণ-পূর্বে ইরানের মতো দুটি বড় সঙ্ঘাতের মাঝখানে থাকা তুরস্কের নিজস্ব নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িয়ে আছে। তাদের বিমান প্রতিরক্ষা, জেট এবং ট্যাংকের ইঞ্জিনের ঘাটতিগুলো বাণিজ্য ও প্রযুক্তি চুক্তির মাধ্যমে পূরণ করা যেতে পারে।
সূত্র : জেরুসালেম পোস্ট
![]() |
| তুরস্কে তৈরি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইলদিরিমহানের পাশে দেশটির পরিবহন ও অবকাঠামো মন্ত্রী আবদুলকাদির উরালোগলু। সংগৃহীত |

No comments