মন খারাপের সময় অস্বাস্থ্যকর খাওয়ার অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখবেন যেভাবে
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অভ্যাস শরীর ও মনের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিক পুষ্টি মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত।
ভিটামিন, মিনারেল ও স্বাস্থ্যকর খাবার যেমন মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে, তেমনি অতিরিক্ত চিনি ও ফাস্টফুড উদ্বেগ ও অবসাদ বাড়িয়ে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা কিছু সহজ কৌশলের পরামর্শ দিয়েছেন, যা অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক কমাতে সাহায্য করতে পারে।
৫ সেকেন্ডের বিরতি নিন
মন খারাপের সময় চিপস বা ভাজাভুজি খেতে ইচ্ছা হলে আগে ৫ সেকেন্ড থামুন।
নিজেকে প্রশ্ন করুন, আসলেই কি ক্ষুধা পেয়েছে, নাকি এটি শুধু আবেগের কারণে খাওয়ার ইচ্ছা? এই ছোট বিরতিই অনেক সময় অভ্যাস ভাঙতে সাহায্য করে।
নিয়মিত খাবারের অভ্যাস বজায় রাখুন
মন খারাপ থাকলেও সময়মতো সকালের নাস্তা, দুপুর ও রাতের খাবার খাওয়া জরুরি। এই সময়ে স্বাস্থ্যকর খাবার রাখার চেষ্টা করতে হবে। বিশেষ করে ফল, শাকসবজি, প্রোটিন ও সাইট্রাস জাতীয় খাবার মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। কারণ, ভিটামিন সি, ডি, জিঙ্ক ও ফোলেটের মতো উপাদান মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
অস্বাস্থ্যকর খাবার দূরে রাখুন
চিপস, চানাচুর, পিৎজা বা ভাজাভুজি হাতের কাছে থাকলে খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই এগুলো সহজে পাওয়া যায় এমন জায়গা থেকে সরিয়ে রাখা উচিত। পরিবর্তে বাদাম, শুকনো ফল, মাখানা, ঘরে তৈরি হালকা স্ন্যাকস বা ঝালমুড়ির মতো স্বাস্থ্যকর বিকল্প রাখা যেতে পারে।
শরীরচর্চা ও হাঁটাহাঁটি
নিয়মিত শরীরচর্চা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। হাঁটা, যোগব্যায়াম বা প্রাণায়াম মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে সকালে খালি পায়ে ঘাসের ওপর হাঁটা মানসিক প্রশান্তি দিতে পারে বলে মনে করেন অনেকে। ব্যায়ামের সময় শরীরে ‘হ্যাপি হরমোন’ নিঃসৃত হয়, যা মন ভালো রাখতে সাহায্য করে।
নিজেকে ব্যস্ত রাখুন
অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ইচ্ছা হলে পানি পান করুন এবং নিজেকে কিছু সময় দিন। ১০ মিনিট দেরি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাসও কার্যকর হতে পারে। এই সময়ে পছন্দের কোনো কাজে মনোযোগ দিলে মন অন্যদিকে সরে যায় এবং খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কমে আসে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও সচেতন জীবনযাপনই অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

No comments